ডাকাতির আরেক নাম নিয়োগ পরীক্ষার ফিস

দেশের অবস্থা দিন দিন কোথায় যে যাচ্ছে সৃষ্টি কর্তাই জানেন। একজন বেকার ছেলে চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ছুটাছুটি করে। এখানে সেখানে চাকরির জন্য এ্যাপ্লিকেশন করে। কিন্তু নিয়োগ পরীক্ষার ফিসের টাকার ব্যাপারে দিন দিন যে অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে তাতে চাকরির এ্যাপ্লিকশন করাও দুষ্কর হয়ে উঠেছে। অন্তত আমাদের মত নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েদের জন্য তো বটেই। গত ৬/১/২০১২ ইং তারিখে ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদে একজন কম্পিউটার অপারেটর চেয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে যেখানে ব্যাংক ড্রাফট চাওয়া হয়েছে ৩০০ টাকা সাথে আবার ১০ টাকা মূল্যের টিকিট দিয়ে ফেরত খামও পাঠাতে হবে। গ্রামে থাকি, একটা টিউশনি থেকে মাসে পাই ৩০০ টাকা। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটা পড়ে তাই একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসল, নীরবে কাগজ খানা ফেলে দিয়ে অন্য কাজে মন দিলাম। জানিনা বিষয় টা ভাববার মত কিনা, কিন্তু এই বিজ্ঞপ্তি পড়ে যদি ১০০ জন এ্যাপ্লিকেশন করে তাহলে নিয়োগ কতৃপক্ষের কাছে পৌছে যাবে ৩০,০০০/= টাকা। ১০০ জনের একটা পরীক্ষা গ্রহণ করতে কি ৩০,০০০/= টাকা লাগে? যে পদ্ধতিতেই পরীক্ষা গ্রহন করা হোক না কেন ১০০ জনের পরীক্ষা নেওয়ার জন্য ৩০,০০০/-টাকা লাগতে পারে এটা আমার মত অনেকেই বিশ্বাস করবেন না।  যারা চাকরির আশায় এ্যাপ্লিকেশনের পর এ্যাপ্লিকেশন করে করে হতাশ হচ্ছে তাদের অবস্থাটা সরকারের ঐ সব উচ্চ পদস্থ লোকজন কোনদিন ভাববে না । সরকার যতই দেশকে ডিজিটাল করার কথা বলুক না কেন যে দেশে এভাবে কোটি কোটি লোকের চোখের সামনে দিয়ে জনগনের টাকা ডাকাতি করা হয়ে সে দেশ কোনভাবেই উন্নতির পথে এগোতে  পারবে না।

Posted in ধর্ম ও সমাজ বাস্তবতা | মন্তব্য দিন

RX যেভাবে এলো

কিছুদিন আগে এক বন্ধুর সাথে ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে। আসলে সদ্য পড়া একটা বই থেকে কিছু যুক্তি তুলে ধরে আমি নিজেকে খুব জ্ঞানী জ্ঞানী দেখানোর চেষ্টা করছিলাম আর কি। তো আমার বন্ধু আমার যুক্তির সাথে ঠিক এটে উঠতে পারছিল না। এ সময় তার সাথে থাকা একটা অল্প বয়সী মেয়ে হটাৎ বলে বসল আপনি কি জানেন ডাক্তাররা ব্যাবস্থা পত্রে RX কেন লেখে? সত্যি আমি বিষয়টা জানতাম না। অজ্ঞতা স্বাকীর করলে মেয়েটি জানালো RX লেখার অর্থ হল “ঈশ্বরের অনুগ্রহেই রোগ সারতে পারে”। মোটকথা সে যা বোঝাল তার অর্থ পুরো মেডিকেল সাইন্স ঈশ্বরে বিশ্বাস করে এবং ঔষধের কাজের চেয়েও ঈশ্বরের দয়ার উপর নির্ভর করে। মেয়েটার কথায় প্রচন্ড ধার ছিল তাছাড়া আমি জানতাম না RX লেখার প্রকৃত কারণ তাই আমাকে চুপসে যেতে হল বাধ্য হয়ে। যদিও নিজে ঠিক বুঝতে পারছিলাম আর যাই হোক RX লেখার কারণ মেয়েটা যা  বলছে তা কোনভাবেই নয় কিন্তু প্রমান করা কঠিন ছিল। সেদিন থেকেই RX কেন লেখে সেটা জানার চেষ্টা করতে লাগলাম। এ ব্যাপারে আমার এক পরিচিত ডাক্তার আমার হাতে ধরিয়ে দিলেন ১৮ই জানুয়ারী ২০১১, তারিখের একটা “বাংলাদেশ প্রতিদিন” পত্রিকা। সেখানেই দেখলাম RX লেখার মূল ইতিহাস। তার সাথে আরো কিছু যোগ করলাম ইন্টারনেট ঘেটে।

মূলত এই RX প্রতীকটা এসেছে একটা ল্যাটিন শব্দ থেকে। শব্দটা হল Recipe, যার অর্থ হল ‘আপনি নিন’। প্রাচীন মিশরীয়দের মধ্যে উটচাট বা ‘হোরাচের চোখ’ নামে এক ধরনের কবচের প্রচলন ছিল। হোরাস হচ্চেন একজন স্বাস্থ দেবতা। হোরাসের চোখ নামে যে কবচ প্রচলিত ছিল তা অনেক রোগ নিবারন করত। এই কবচের প্রথমিক আকার অনেকটা হেরাসের চোখের মত ছিল। তবে এটা নানান জিনিস দিয়ে তৈরি করা হত। এভাবে এটি ব্যবহারিত হতে শুরু করে এবং কালক্রমে এটি ব্যাবস্থা পত্র চলে আসে। তবে অবশ্যই এটি ব্যবস্থা পত্রে আসার পেছনে দেবতার করুনাইয় রোগ সারার একটা ব্যাপার থেকেই যায়। পরবর্তী সময়ে অনেক জ্যোর্তিবিদরা RX কে বৃহষ্পতি গ্রহের প্রতীক হিসেবে কুষ্ঠি, ঔষধের ব্যবস্থা পত্রে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে বিপদের হাত থেকে দেবতার সাহায্য পাওয়ার আশায় এটি ব্যবহার শুরু করেন। খ্রিষ্টান ধর্মীরাও এটাকে নিজেদের ধর্মে গ্রহণ করে। ব্যবলনীয় চিকিৎসকরা দেবতা মারদুকের সন্তুশটির জন্য ব্যবস্থাপত্রে একটি প্রতীক চিহ্ন ব্যবহার করতেন। মারদকের প্রতীক চিহ্ন ছিল RX। ব্যবিলনে ও মিশরে একইরকম প্রতীক ব্যবহারিত হত। আর এর থেকেই এটার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পরবর্তী সময়ে এর ব্যবহার থেকে যায়। এখনও ডাক্তাররা তাদের ব্যবস্থা পত্রে এই প্রতীক ব্যবহার করেন।

Posted in জানা-অজানা | মন্তব্য দিন

একটি অসাধারণ স্ক্রীন ভিডিও সফটওয়ার

এই সফটওয়ার দিয়ে আপনি সহজেই আপনার স্ক্রীণে যা ঘটছে তা ভিডিও করতে পারেন। এটি মাত্র ৭৭২ কিলোবাইটের একটি ছোট সফটওয়ার। ব্যবহার পদ্ধতিও একেবারে সহজ। প্রথমে http://www.smallvideosoft.com/
থেকে সফটওয়ারটি ডাউনলোড করে নিন। ইন্সটল করুন। স্ক্রীন ভিডিও করার জন্য Record এ ক্লিক করুন এর পর স্ক্রীনের কতটুকু অংশ ভিডিও করতে চান তা সিলেক্ট করে নিন আপনি চাইলে পুরো স্ক্রীনটাই সিলেক্ট করতে পারেন। সিলেক্ট করার সাথে সাথে শুরু হবে যাবে স্ক্রীন ভিডিও কাজ শেষে Stop এ ক্লিক করলেই আপানার কাজের সব ভিডিও সেভ হয়ে যাবে এবং সাথে সাথে প্লে হবে আপনার সামনে।

Posted in অন্যান্য | মন্তব্য দিন

লিনাক্সে/উবুন্টুতে অভ্র ইন্সটল করুন সহজ পদ্ধতিতে

উইন্ডোজকে বিদায় বলব বলব করেও বলতে পারছিলাম না কিছু কারণে। প্রথম কারণ ছিল ইন্টারনেট কানেকশন। লিনাক্সে সিটিসেলের মোডেম ইন্সটল করতে পারচ্ছিলাম কোনভাবেই। বিভিন্ন ফোরাম, ব্লগ ঘাটাঘাটি করে শেষে সেটা পেলাম কিন্তু বাংলা লিখতে না পারায় মনে তৃপ্তি পাচ্ছিলাম না। আবার শুরু হল খোজা-খুজি। লিনাক্সে বাংলা লেখার জন্য অসংখ্য আর্টিকেল আছে নেটে। কিন্তু সমস্যা হল আমার মত মাথামোটাদের তা কোন কাজেই লাগল না। শেষে খুজতে খুজতে অমিক্রোনল্যাবের ফোরামে পেয়ে গেলাম একটা চমৎকার উপায়। সেটাই এখানে উল্লেখ করব। এর জন্য প্রথমেই  http://www.mediafire.com/file/9xo4g59998y59h5/scim-avro.zip থেকে scim-avro.zip ফাইলটা ডাউনলোড করে নিন। আপজিপ করার পর scim-avro নামে একটা ফাইল পাবেন ওটা খুললে আরো একটা ফাইল পাবেন scim-avro নামে এটিকে ডেস্কটপে কপি-পেষ্ট করুন । এবার টার্মিনাল খুলে নিচের কমান্ডগুলো দিন।

1. cd Desktop/scim-avro
2. sudo dpkg -i *.deb
3. im-switch
4. select (Scim) then Ok.

এবার সিস্টেম রিস্টার্ট দিন। LibreOffice Writter খুলে Alt+Space ক্লিক করে ফনেটিক সিস্টেমে বাংলা লেখা শুরু করুন। যদি ফনেটিকে সমস্যা হয় তাহলে প্যানেলে যেখানে অভ্র আইকন আছে সেখানে ক্লিক করে Bengli তে ক্লিক করে ইউনিবিজয় সিলেক্ট করে বিজয় দিয়েও বাংলা লিখতে পারেন।

স্ক্রীন শর্ট

Posted in উবুন্টু | মন্তব্য দিন

উবুন্টু ১০.১০ এ সিটিসেলের মোডেম ইন্সটল

গত ১ মাসেরও বেশী সময় ধরে “উবুন্টুতে সিটিসেলের মোডেম ইন্সটল করার উপায়” এই কথাটি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে গুগলে প্রায় ৫০ বার সার্চ দিয়েছি। এই বিষয়ের উপর অসংখ্য টপিক আছে বিভিন্ন ফোরাম এবং ব্যক্তিগত ব্লগগুলোতে কিন্তু আমার ক্ষেত্রে কোনটাই কোন উপকারে আসেনী। শেষে হতাশায় ডুবে যেতে যখন ভাবছিলাম উইন্ডোজই ভাল তখনই প্রজন্ম ফোরামে আকীক ভাইয়ের একটা লেখা চোখে পড়ল। উনি খুব সুন্দর করে একটা উপায় বর্ণনা করেছেন সেখানে। ঐ টপিক অনুসরণ করে কিছু ফাইল ডাউনলোড করে আবার উবুন্টু ওপেন করলাম এবং অনেক চেষ্টার  পর বরাবরের মতই হতাশ হলাম। শেষে আর কোন উপায় আছে কিনা জানতে চেয়ে ঐ টপিকেই একটা কমেন্ট করলাম। পরদিনই ঐ টপিকের লেখক আকীক ভাইয়ের মেইল পেলাম। উনি আমাকে আরো কিছু টিপস দিয়ে শেষে নিজের মোবাইল নাম্বাস দিয়ে বলেছেন ওতেও কাজ না হলে উনাকে কল করতে। আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করলাম এবং নিরুপায় হয়ে শেষে কল করলাম উনাকে। উনি আমাকে মোডেম লাগিয়ে একটা স্ক্রীনশর্ট দিতে বললেন। আমি তাই করলাম পরে উবুন্টু ওপেন করে উনার নির্দেশিকা অনুসরণ করে শেষ  পর্যন্ত সফল হলাম। এবং ব্যাপারটা এত সহজে, এত কম সময়ে হয়ে গেল যে আম চমকিত না হয়ে পারলাম না। যদিও ব্যাপারটা খুব সহজ কিন্তু উনি বুঝিয়ে না দিলে হয়তো আরো দীর্ঘদিন আমাকে হয়রান হতে হতো তাই উনার প্রতি আমি ভীষণ কৃতজ্ঞ। শুধু বলার জন্যে বলছি না, আকীক ভাই সত্যি অসাধারণ হেল্পফুল মানসিকতার। তাই আমার এই টপিক লেখার সমস্ত কৃত্বিত্ত আকীক ভাইয়ের।

যা হোক এবার আমি মূল বিষয়ে আসি। উবুন্টু ১০.১০ এ সিটিসেলের মোডেম ইন্সটল করার জন্য  তেমন কিছুই করতে হবে না শুধু  … প্যানেলে থাকা নেটওয়ার্ক অপশনের উপর মাউস রেখে লেফট বাটনে ক্লিক করতে হবে। (নিচের চিত্রে যেখানে মাউসের পয়েন্টার রাখা আছে)

এর ফলে যে মেনুটা খুলে যাবে তার থেকে Edit Connection এ ক্লিক করতে হবে। এখানে ক্লিক করলে নিচের চিত্রের মত একটা ডায়ালগ বক্স খুলে যাবে যেখানে Mobile Broadband অপশনে ক্লিক করে ধারাবাহিকভাবে (Country) Bangladesh> (Provider) Citycell সিলেক্ট করে User Name     ও Password দুটোই waps লিখে Apply তে ক্লিক করে বেরিয়ে আসতে হবে।

এবার সবকিছু ক্লোজ করে দিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। (প্রায় ১ মিনিটের মত) ১ মিনিট পর প্যানেলের Network অপশনের উপর মাউসের লেফট বাটনে ক্লিক করলে যে মেনু খুলে যাবে সেখানে Citycell কে Available দেখাবে।

ব্যাস এবার ওখানে ক্লিক করলেই আপনার পিসি সিটিসেলের নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হয়ে যাবে। যদি প্রথমবার কোন কারণে না হয়, ভায় নেই আমার ক্ষেত্রেও প্রথমবার হয়নি, এক্ষেত্রে পিসিকে রিস্টার্ট দিয়ে পুনঃ চেষ্টা করলে কানেকশন পেতে বাধ্য।

পরিশেষে আবারো আকীক ভাইকে একটা ধন্যবাদ।

Posted in উবুন্টু | মন্তব্য দিন

কবিতার ছন্দ

যখন কবিতার খাতায়

থেমে যায় আমার কলম,

বিক্ষিপ্ত আর চঞ্চল হয়ে ওঠে মন

চোখ বুজএ আসে হতাশায় যখন,

তখনই দেখতে পাই তোমাকে।

তোমার খোলা চুল দোলা দিয়ে যায়

আমার হৃদয়ের  প্রতিটি কল্পনায়।

আমি খুজে পাই কবিতার ছন্দ।

তোমার হাসি আমার কানে বাজে

আমি নিশ্চুপ হয়ে শুনি।

আমি অনুভব করি দুটি গোলাপের

পাপড়ির স্পর্ষ-

আমার মন বুঝতে পারে তার মানে।

চোখ মেলতেই তুমি হারিয়ে যাও

শুধু থেকে যায়-

তোমার দেওয়া কবিতার ছন্দ

আমার হৃদয়ের প্রতিটি কল্পনায়।

আমার কলম আবার গতি পায়

ভরে ওঠে খাতার প্রতিটি পাতা

তোমার দেওয়া কবিতার ছন্দে।

Posted in Uncategorized | মন্তব্য দিন

“সত্যানুসরণ” একটি পথ নির্দেশনা

হিন্দু ধর্মের একজন আধ্যতিক পুরুষ শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র। তার প্রতিষ্ঠিত ‘সৎসঙ্ঘ’ মানুষের সেবায় নিয়োজিত একটি প্রতিষ্ঠান। জাতি ধর্ম, বর্ন, নির্বিশেষে অতি সাধারণ মানুষের মুক্তির জন্য, সুন্দরভাবে বাঁচা ও বাড়ার জন্য তিনি সারা জীবন কাজ করে গেছেন। সত্যানুসরণ এমনি একটি উপদেশমূলক যা পড়লে মানুষ অমৃতের স্বাদ পায়। অন্ধকার থেকে আলোকের দিয়ে বেরিয়ে আসে। প্রত্যের উচিত নিয়মিত এই মহামূল্যবান গ্রন্থ  পাঠ করা এবং সেই আদর্শে জীবন চালিত করা। মাত্র ২১০ কিলোবাইটের বইটির pdf সংস্করণ এখান থেকে ডাউনলোড করে নিতে  পারেন।

Posted in ধর্ম ও সমাজ বাস্তবতা | ১ টি মন্তব্য